সূচ‌কে নিম্নমুখিতা

মা‌র্চে পুঁজিবাজা‌রে লেন‌দেন কমে‌ছে ১০ শতাংশ

নতুন বছরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে দেশের পুঁজিবাজার। তবে রমজান মাসে পুঁজিবাজারে সংক্ষিপ্ত লেনদেনের পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মার্চে পুঁজিবাজারে নিম্নমুখিতা দেখা গেছে।

নতুন বছরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে দেশের পুঁজিবাজার। তবে রমজান মাসে পুঁজিবাজারে সংক্ষিপ্ত লেনদেনের পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মার্চে পুঁজিবাজারে নিম্নমুখিতা দেখা গেছে। এ সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ২৮ পয়েন্ট হারিয়েছে। এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে প্রায় ৯ দশমিক ৭০ শতাংশ।

ইবিএল সিকিউরিটিজের মাসিক পুঁজিবাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ফেব্রুয়ারি শেষে ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৫ হাজার ২৪৭ পয়েন্ট। মার্চ শেষে সূচকটি ২৮ পয়েন্ট বা দশমিক ৫৪ শতাংশ কমে ৫ হাজার ২১৯ পয়েন্টে এসে দাঁড়িয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ডিএসইতে দৈনিক গড়ে ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলারের লেনদেন হয়েছে, মার্চে তা কমে ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে প্রায় ৯ দশমিক ৭০ শতাংশ।

গত বছরের মার্চে ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার, এপ্রিলে ৪ কোটি ৭০ লাখ, মে মাসে ৫ কোটি ৭০ লাখ, জুনে ৩ কোটি ৯০ লাখ, জুলাইয়ে ৫ কোটি ১০ লাখ, আগস্টে ৭ কোটি ৩০ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৫ কোটি ৬০ লাখ, অক্টোবরে ৩ কোটি, নভেম্বরে ৪ কোটি ২০ লাখ, ডিসেম্বরে ৩ কোটি ৬০ লাখ এবং এ বছরের জানুয়ারিতে দৈনিক গড়ে ৩ কোটি ডলারের লেনদেন হয়েছে পুঁজিবাজারে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজান মাসে পুঁজিবাজারে সংক্ষিপ্ত লেনদেনের পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বেড়েছে এবং এটি তাদের বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকেও প্রভাবিত করছে। এছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিতে হঠাৎ অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগকারীদের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির প্রবণতা বাড়ছে। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) শেয়ারধারী বিও হিসাবের সংখ্যা কমেছে ২০ হাজার ৮৩৯টি। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে পুঁজিবাজারে শেয়ারধারী বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৭১ হাজার ৭৫৯। সর্বশেষ ২৫ মার্চ এটি কমে ১২ লাখ ৫০ হাজার ৯২০টিতে দাঁড়িয়েছে।

মার্চে দেশের পুঁজিবাজারের মূলধন কমেছে ১৭৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার। গত ফেব্রুয়ারিতে বাজার মূলধন ছিল ৫ হাজার ৬৯৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা মার্চ শেষে ৫ হাজার ৫২৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজারের মূল্য-আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ১৩ দশমিক শূন্য ২।

বিশ্বের অন্যান্য প্রধান পুঁজিবাজারের তুলনায় গত মার্চে দেশের পুঁজিবাজারের পারফরম্যান্স ছিল কিছুটা নিম্নমুখী। এ সময়ে চীন, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, ভারত ও পাকিস্তানের পুঁজিবাজার ছিল ঊর্ধ্বমুখী। অন্যদিকে গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা ও বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ছিল নিম্নমুখী। এর মধ্যে পারফরম্যান্সের দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজার ছিল সবচেয়ে পিছিয়ে।

গত সপ্তাহের বাজার পরিস্থিতি: গত সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইতে সূচক‌ ৩৪ শতাংশ বাড়লেও ও দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ৪৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২১৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৫ হাজার ২০২ পয়েন্ট। ডিএসইতে গত সপ্তাহে চার কার্যদিবসে মোট ১ হাজার ৬২৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা।

দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই দশমিক ১২ শতাংশ কমে ১৪ হাজার ৫৪১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৪ হাজার ৫৫৯ পয়েন্ট। সিএসইতে গত সপ্তাহে ৫০ কোটি ৮১ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ২৮ কোটি টাকা।

আরও